আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং নগদ টাকার বড় অঙ্কের লেনদেন কমাতে ক্যাশলেস পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
রবিবার ঢাকার গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের কারণে অনেক সময় ছিনতাই, প্রতারণা এবং জাল টাকা ব্যবহারের মতো অপরাধ ঘটে। এসব ঝুঁকি কমাতে ডিজিটাল পেমেন্ট বা কার্ডভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে জনসমাগম বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক অর্থনৈতিক লেনদেন হয়। এই সময়টিকে অপরাধীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, হাট এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাবের কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তিনি আরও জানান, পশুবাহী যানবাহন যাতে কোনোভাবে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নেওয়া না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বা চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব ডিজি বলেন, জাল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাটে কোনো চক্র জাল টাকা ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জাল টাকা উৎপাদন ও বিতরণকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
পরিদর্শনের সময় তিনি গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালও ঘুরে দেখেন এবং যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঈদযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে হাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে র্যাবের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক