মধ্যপ্রাচ্যে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা: তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মধ্যপ্রাচ্যে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা: তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা: তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের নবম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশে একটি পানি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের উপসাগরীয় দেশগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী পানযোগ্য পানি উৎপাদন ও সরবরাহে ক্ষতি হয়েছে।

এই হামলার ঠিক এক দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পানি শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, হামলার ফলে ৩০টি গ্রামে পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও দূষণ অপসারণ করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে। সাধারণত দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়—তাপ প্রয়োগ করে পানি বাষ্পে পরিণত করে পরবর্তীতে তরলে রূপান্তর এবং মেমব্রেন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘রিভার্স অসমোসিস’, যা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ এই রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

উপসাগরীয় অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত কম এবং মিঠা পানির উৎস সীমিত থাকায় দেশগুলো সমুদ্রের পানি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আরব সেন্টার, ওয়াশিংটন ডিসি অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ডিস্যালাইনেশন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি সদস্য দেশগুলো। বিশ্বের মোট পরিশুদ্ধ সমুদ্রের পানির প্রায় ৪০ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়।

দেশভেদে নির্ভরতার হারও অত্যন্ত বেশি। কুয়েতে সুপেয় পানির প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪২ শতাংশ পানি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশে চার শতাশিক ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু পানি সরবরাহই নয়, পুরো অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হলে শহরগুলোর পানি সরবরাহ হ্রাস পাবে, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ তৈরি হবে, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এছাড়া, ইতিহাসে ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাক কুয়েতের বেশির ভাগ ডিস্যালাইনেশন স্থাপনা ধ্বংস করেছিল, যা দেশটির পানির সরবরাহে বড় সংকট সৃষ্টি করেছিল।

ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো, যেমন বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে কারণ তাদের বিকল্প পানি উৎস সীমিত। তবে বড় দেশগুলো কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৪৫ দিনের পানির মজুত ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারত ও ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং দাম একলাফে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ভারতীয় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানির নিরাপত্তা এবং সরবরাহ চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সামরিক মহড়ায় হরমুজে নৌযান চলাচল সীমিত করল ইরান

সামরিক মহড়ায় হরমুজে নৌযান চলাচল সীমিত করল ইরান