২৪ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি: জানালেন শেহবাজ শরিফ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২৪ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি: জানালেন শেহবাজ শরিফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 13, 2026 ইং
২৪ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি: জানালেন শেহবাজ শরিফ ছবির ক্যাপশন:

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি নির্দেশ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, “আমরা এখন শান্তি চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে।

তিনি আরও জানান, চুক্তিটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে, আব্বাস আরাঘচি-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং জ্বালানি দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা হলে দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

শেহবাজ শরিফ তার বার্তায় আরও বলেন, “আলোচনা প্রক্রিয়ায় অব্যাহত অঙ্গীকারের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধন্যবাদ জানাই।” পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নেই ভূমিকা রাখবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে। বিশেষ করে লেবাননসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার কারণে যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশে কমে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এখন নজর রয়েছে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার দিকে, যখন এই বহুল আলোচিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রমজান সামনে রেখে সানায় আবারও যুদ্ধভীতি

রমজান সামনে রেখে সানায় আবারও যুদ্ধভীতি