জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চিফ হুইপ ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে সংসদে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের কাজ দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে করা প্রয়োজন, যাতে দেশের সংসদ কার্যক্রমে ন্যায্যতা বজায় থাকে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, পুলিশের হাতে হত্যার ঘটনায় সম্পূর্ণ এবং ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের যোদ্ধা ও আহতদের বিচারের আগে অন্য কোনো বিচারে এগোনো উচিত নয়। বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠু না হলে দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনীতি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি বলেন, চলমান আন্দোলনের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নয়, বরং স্বৈরাচারী রাজনৈতিক কাঠামোর অবসান ঘটানো। চব্বিশের অভ্যুত্থান সাধারণ জনগণের অসামান্য ত্যাগ ও আত্মত্যাগের ফল, তবে সেই সুবিধা এখনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে সঠিকভাবে ভাগাভাগি হয়নি। সাধারণ মানুষ আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা সেই অর্জনের পুরো সুবিধা ভোগ করছেন।
নাহিদ ইসলাম চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে অপসারণের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি নীতিমালায় ঋণখেলাপীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সংবিধান সংস্কারের কাজ বাধ্যতামূলক। “সংসদে বক্তব্য রাখতে না পারলে, দেশের রাজনীতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে, যা গণতন্ত্রের স্বার্থে ক্ষতিকর,” তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কার এবং ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায়ও অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে সংসদে স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যায়।
নাহিদ ইসলাম চূড়ান্তভাবে জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমে কোনও দেরি হলে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের একত্রিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।
কসমিক ডেস্ক