অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আইনগত ও নীতিগত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয় বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত কী কী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ এবং নীতিমালা প্রণয়নসহ নানা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব কাজ হয়েছে, যেগুলো আইন হয়েছে, অর্ডিন্যান্স হয়েছে, পলিসি হয়েছে বা অন্যান্য ইনস্ট্রুমেন্ট সাইন হয়েছে, সেটার একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে।”
এই উপস্থাপনায় দেখা যায়, সরকার ইতোমধ্যে ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক কেবিনেট বৈঠক হয়েছে মোট ৬৮টি। এসব বৈঠকে মোট ৫২৬টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৪৩৯টি, যার বাস্তবায়ন হার ৮৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন শফিকুল আলম।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আরও ১৬টি অধ্যাদেশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তিনটি অধ্যাদেশ। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৪টি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সময়ে সম্পন্ন হয়েছে ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের জন্য মোট ৩৪৮টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্প মেয়াদের মধ্যেও এ পরিমাণ অধ্যাদেশ জারি এবং নীতিমালা ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়া সরকারের কার্যক্রমের গতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা প্রকাশ করে। বিশেষ করে কেবিনেট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮৩ শতাংশ হওয়াকে কার্যকর প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিফিংয়ে দেওয়া এই তথ্যগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে গৃহীত সিদ্ধান্ত, আইনগত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করেছে।
কসমিক ডেস্ক