ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর ছবির ক্যাপশন: ইরানের হামলা নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানি। তিনি বলেছেন, কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান একটি বড় ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে।

গত রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কাতার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং তারা কখনোই উত্তেজনা বাড়ানোর পক্ষে নয়। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বারবার বলেছি যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরা অংশ নিচ্ছি না। আমরা উত্তেজনা বৃদ্ধি চাই না। বরং কূটনৈতিক উপায়ে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

তবে যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই কাতার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষায়, “যুদ্ধ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা দেখলাম, কাতার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে নির্বিচারে হামলা চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ইরান এমন একটি ভুল করছে, যা শেষ পর্যন্ত অনেক কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।”

তবে কাতার প্রতিশোধমূলক কোনো হামলার পথে যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশোধমূলক হামলায় যাব না। আমরা ইরানের সঙ্গে সংলাপ এবং কূটনৈতিক পন্থায় এই সংকট সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্থাপন করা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান মূলত এসব মার্কিন সেনাঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতারের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহার অদূরে মরুভূমিতে অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। প্রায় ২৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই ঘাঁটি থেকে পশ্চিমে মিসর থেকে শুরু করে পূর্বে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আলজাজিরা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মানুষের সেবাকেই রাজনীতি মনে করে জামায়াত: ছাইফুর রহমান

মানুষের সেবাকেই রাজনীতি মনে করে জামায়াত: ছাইফুর রহমান