দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, নতুন মুখ যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রীদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ওপর কাজের চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের প্রভাবশালী মহল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন এমন কয়েকজন এমপির নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ সংসদ সদস্যের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এছাড়া নরসিংদী থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একজন নারী সংসদ সদস্যের নামও আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকটিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া খুলনা, ঢাকা এবং বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদ থেকেও কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
এদিকে মন্ত্রিসভায় এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তার এই পদত্যাগ ঘিরে সরকার ও প্রশাসনের ভেতরে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধুমাত্র অসুস্থতার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে দেশের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভায় সদস্য যুক্ত হলে এই সংখ্যা এবং কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গতি আনতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্তভাবে কারা নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পান এবং কী ধরনের পরিবর্তন আসে সরকারের নীতিনির্ধারণী স্তরে।
কসমিক ডেস্ক