যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে ইরান মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার জানান, তেহরান কর্তৃক কার্যকরভাবে বন্ধ রাখা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে ‘আগাম ছাড়পত্র’ দেওয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি নিশ্চিত করেছে যে মালয়েশিয়ার তেল ট্যাংকার এবং এর কর্মীরা নিরাপদে তাদের যাত্রা চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে কতগুলো জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে বা কী শর্তে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার আরও উল্লেখ করেছেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে মালয়েশিয়ার অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়লেও দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়া অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি সরবরাহকারী এবং নিট জ্বালানি রপ্তানিকারক, যদিও প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত মাসিক কোটা কমানো হবে এবং ধীরে ধীরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া খাদ্য সরবরাহ, সার এবং তেল ও গ্যাসের বাজারে প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব আমাদের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা পুরোপুরি রক্ষা পেয়েছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সতর্কতার সঙ্গে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপদ পারাপারের অনুমোদন মালয়েশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমোদন পেলে মালয়েশিয়ার তেল ও এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আসতে পারে এবং অঞ্চলে জ্বালানি সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সংক্ষেপে, ইরান মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রার অনুমতি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিয়েছে। মালয়েশিয়ার সরকার জ্বালানি সরবরাহ ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কসমিক ডেস্ক