নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় এক কৃষকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রভাত চন্দ্র রায় (৫৫)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলাপাড়া সিংগীমারী মন্দিরের উঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং নীলকণ্ঠ রায়ের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরেও নিজ কাজে বের হন প্রভাত চন্দ্র রায়। তার বড় ছেলে পতিরাম রায় জানান, ভোর প্রায় ৫টার দিকে কলাপাতা কাটার উদ্দেশ্যে একটি হাঁসুয়া নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা।
পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শ্মশানের সামনে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন, সেটি প্রভাত চন্দ্র রায়ের। মরদেহটি ছিল গলা কাটা এবং রক্তাক্ত অবস্থায়।
এ ঘটনার খবর দ্রুত পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভাতের মরদেহ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতের গলার বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
নিহত প্রভাত চন্দ্র রায়ের পারিবারিক জীবনে দুই স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে এই এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি। তাই দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তারা কাজ করছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।