জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বজ্রাঘাতে এক মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি রেলস্টেশন সংলগ্ন পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী, কোহিনুর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। দোকানটি ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোরে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।
পরে এলাকায় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়রা জানান, বজ্রপাতের পরপরই দোকানটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কোহিনুর মিয়া জানান, এই দোকানই ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তিনি বলেন, “ওই দোকানটাই আমার আয়ের একমাত্র উৎস ছিল। সেটিও বজ্রাঘাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও জানান, আগুনে তার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, বজ্রপাতের সময় বিকট শব্দের সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, সকালে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপরই দোকানটিতে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, “মুহূর্তের মধ্যে পুরো দোকানটি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী যদি সরকারি সহায়তা পান, তাহলে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেক সময় এক রাতের দুর্যোগে বছরের পরিশ্রমের সব পুঁজি হারিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বজ্রাঘাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবারও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, যা স্থানীয়ভাবে সহায়তা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
কসমিক ডেস্ক