ইসরায়েল ইস্যুতে ওআইসির জরুরি সভা, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসরায়েল ইস্যুতে ওআইসির জরুরি সভা, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 9, 2026 ইং
ইসরায়েল ইস্যুতে ওআইসির জরুরি সভা, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছবির ক্যাপশন:
ad728

সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘অননুমোদিত’ সফরের প্রতিবাদে সৌদি আরবের জেদ্দায় জরুরি সভা আহ্বান করেছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এই সভায় যোগ দিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভা শেষে শনিবারই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি ওই সফরকে কেন্দ্র করে ওআইসি ও বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশ এরই মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, ইরান, ইরাক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ ও ওমানসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র। বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তার সফরকে ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেদ্দার এই জরুরি বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি অবস্থান গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। পাশাপাশি সোমালিয়ার ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডাকে উৎসাহিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এই জরুরি সভাকে ঘিরে গত তিন দিনে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের মধ্যে। সর্বশেষ গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ওআইসির অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস’ অধিবেশন আহ্বানের প্রশংসা করেন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বেইজিং থেকে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন ইসহাক দার। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করে। একই দিনে ইসহাক দার সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিবৃতিতে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। জেদ্দার এবারের সভাকে সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিও বার্তা ঘিরে ধূম্রজাল: আসল

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিও বার্তা ঘিরে ধূম্রজাল: আসল