আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অনেকাংশেই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। পুলিশ জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী এবং তাদের প্রধান দায়িত্ব জনগণের সেবা করা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা আনুগত্য দেখানো পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে আইনগত বিষয়, জনবান্ধব আচরণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবেন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই মানবিকতা ও সংযম বজায় রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়। এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে এই মূল্যবোধ ধারণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে বলেন, কর্মজীবনের শুরু থেকেই সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা সম্ভব। পুলিশের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই জনগণের কাছে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি প্রতিফলিত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিচ্ছে।