চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের মোট ছয়জন আহত হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নেতা আহত হয়েছেন। তারা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) এবং শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। রাতেই উভয় নেতাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, তাদের তিনজন সমর্থক আহত হয়েছেন। তারা হলেন মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন ও আশিক।
জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা রাতের মিছিল চলাকালে তাদের নির্বাচনী অফিসে এসে দুই নেতাকে মারধর করেছে। তবে বিএনপি অফিসে কোনো ক্ষতি হয়নি।
বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে উজলপুর জামায়াতের অফিসের নেতাকর্মীরা উস্কানিমূলক আচরণ করেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনজন সমর্থক আহত হন। তিনি জামায়াতের আহতদের বিষয়কে মিথ্যা দাবি হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরের ওপর হঠাৎ হামলা চালায়, এতে অফিস ভাঙচুর ও আহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আল ইমরান জুয়েল জানান, জামায়াতের দুই নেতার মাথা ও চোখের নিচে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
দর্শনা থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় উভয়পক্ষের আহতদের তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনী অফিসে একটি চেয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
কসমিক ডেস্ক