মার্কিন চাপ, শ্রীলঙ্কায় আটকা ইরানি নাবিকরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মার্কিন চাপ, শ্রীলঙ্কায় আটকা ইরানি নাবিকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 7, 2026 ইং
মার্কিন চাপ, শ্রীলঙ্কায় আটকা ইরানি নাবিকরা ছবির ক্যাপশন:

ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন। শ্রীলঙ্কাকে সরাসরি চাপ দেওয়া হয়েছে যাতে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো না হয়। বুধবার (৪ মার্চ) গ্যাল বন্দর থেকে ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে মার্কিন সাবমেরিন একটি টর্পেডো ছুড়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে ডুবিয়ে দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এই হামলাকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সাবমেরিনের প্রথম অভিযান হিসেবে বিবেচিত, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ থেকে ৩২ জন নাবিক এবং পার্শ্ববর্তী জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ থেকে ২০৮ জন নাবিককে শ্রীলঙ্কা উদ্ধার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জানান, মানবিক কারণে এই নাবিকদের গ্রহণ করা শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বর্তমানে উদ্ধারকৃত নাবিকদের কলম্বোর কাছে একটি সুরক্ষিত নৌ-ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে।

কলম্বোয় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল স্পষ্টভাবে শ্রীলঙ্কা সরকারকে জানিয়েছেন যে, এই নাবিকদের কোনোভাবেই ইরানে ফেরত পাঠানো যাবে না। ওয়াশিংটনের দাবী, ইরান সরকার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রোপাগান্ডার জন্য ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে এই নাবিকদের মধ্যে কেউ দলত্যাগ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে চাইছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইরান সরকার নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য শ্রীলঙ্কার সহযোগিতা চেয়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় জাহাজ ‘বুশেহর’ও শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকবে।

এই ঘটনায় শ্রীলঙ্কা একদিকে মানবিক দায়িত্ব পালন করতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই চাপ কূটনৈতিকভাবে শ্রীলঙ্কার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন-ইরানি সংঘাতের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কা সরকারের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো, উদ্ধারকৃত নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক সুবিধা নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মোকাবিলা করা। এই পরিস্থিতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ইস্যুর দিকে পরিণত করেছে, যেখানে নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার জন্য এটি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার একটি কঠিন পরীক্ষা। নাবিকদের হেফাজতের বিষয়টি দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংক্ষেপে, ভারত মহাসাগরের সাবমেরিন হামলার পর উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের ভবিষ্যত নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। শ্রীলঙ্কা নাবিকদের মানবিকভাবে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের চাপের কারণে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভার্চুয়াল সমাবেশে তারেক রহমান, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

ভার্চুয়াল সমাবেশে তারেক রহমান, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান