খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, তিন দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, তিন দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 24, 2026 ইং
খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, তিন দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান ছবির ক্যাপশন:

সারা দেশে নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

সভায় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন

সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশব্যাপী সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। খাল খনন কর্মসূচিকে দৃশ্যমান ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি টেকসই খাল খনন, মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি চলতি অর্থবছর এবং আগামী বছরগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর করণীয় নির্ধারণ করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয়, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। নদী-খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাধার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৌশল প্রয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে এ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময়মতো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকির মাধ্যমে কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন কার্যক্রমকে শুধু অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিবেশ, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বিত একটি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা জমা হলে তা পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আগাম ভোটের পথে জাপান, সংসদ ভেঙে দিলেন তাকাইচি

আগাম ভোটের পথে জাপান, সংসদ ভেঙে দিলেন তাকাইচি