বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন, সুবিধায় জামায়াত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন, সুবিধায় জামায়াত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 15, 2026 ইং
বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন, সুবিধায় জামায়াত ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পালাবদলের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলা হিসেবে এটি Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই চিত্রে স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর প্রার্থীরা। বাকি একটি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি।

ঝিনাইদহ-2 আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল মজিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।

এই আসনে বিএনপির পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন না পাওয়াকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মতিয়ার রহমান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসেবে একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। দলীয় একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ভোটারদের বিরূপ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তরুণ ও নারী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ঝুঁকেছেন বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মাওলানা আবু তালিব। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।

রাশেদ খাঁনের পরাজয়ের পেছনে স্থানীয়ভাবে গণসংযোগের ঘাটতি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাকে দায়ী করা হচ্ছে। তার বাড়ি সদর উপজেলায় হওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারাও প্রভাব ফেলেছে বলে আলোচনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রার্থীভিত্তিক পরাজয় নয়; বরং দলীয় অবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির একাধিক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তা দলের ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।

অন্যদিকে, গত দেড় বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা-সহায়তা, মানবিক কার্যক্রম এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা ভোটব্যাংকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাদের সক্রিয় প্রচারণা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতের জয় স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এটি সাময়িক ঢেউ নাকি স্থায়ী পরিবর্তন—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে দলগুলোর সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতৃত্বের কৌশল এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রমের ওপর। তবে এবারের ফলাফল যে ঝিনাইদহের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তা বলাই যায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
উইলিয়াম–কেট: রাজকীয় রূপকথায় কি তবে নীরব দূরত্ব?

উইলিয়াম–কেট: রাজকীয় রূপকথায় কি তবে নীরব দূরত্ব?