গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলা পরিচালিত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরে এবং উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায়।
আল জাজিরা–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ হামলা ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানের তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’-র ওপারে সংঘটিত হয়েছে।
উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুত্যুতদের তাঁবু–কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এই হামলায় আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল অন্তত ১,৫০০ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই সময়সীমায় গাজায় সংঘটিত হামলায় কমপক্ষে ৫৯১ জন নিহত এবং ১,৫৯০ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হামলা শান্তি প্রক্রিয়া ও যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার সাধারণ জনগণ ক্রমাগত সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক সংকটে ভুগছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও গাজায় নিত্যনতুন হামলার কারণে দমনের আহ্বান জানাচ্ছে। তারা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার জন্য পুনরায় তাগাদা দিয়েছে।
গাজার পরিস্থিতি দ্রুত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, যেখানে শিশু, নারী ও বয়স্কদের ওপর হামলা এবং বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
গাজায় চলমান সংঘাত এবং ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিশ্বসংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংস্থা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংক্ষেপে, গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়া একটি নতুন মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের সূচনা করেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করছে।
সূত্র: আল জাজিরা, গাজা কর্তৃপক্ষ।