ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন বলেছেন, তিনি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিতে চান না এবং কখনো এমন উদ্দেশ্যও তার নেই। তবে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার দুলাল মুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিচ্ছি না, দিতে চাইও না। কালীগঞ্জে অপসাংবাদিকতা চলে, কিন্তু ঝিনাইদহে এ ধরনের সাংবাদিকতা নেই। এখানে বস্তুনিষ্ঠ, সত্য ও ন্যায়পরায়ণ সাংবাদিকতাই চলবে।’
দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে কালীগঞ্জের তৃণমূল বিএনপি নাকি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অনড় এবং তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাশেদ খাঁন জানান, এ সংবাদের বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রতিনিধি তাকে জানান, কালীগঞ্জে একজন অনলাইন প্রতিনিধি রয়েছেন। পরে সেই অনলাইন প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একজন ব্যক্তি খবর লিখে পাঠিয়েছেন। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করেছি, সেই ব্যক্তির নাম কী? পরিচয় কী? যখন নাম-পরিচয় ছাড়া কেউ নিউজ পাঠায়, আর সেটি যাচাই না করে প্রকাশ করা হয়—এটি সাংবাদিকতা হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন—এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে নিয়ে নিউজ করতে হলে অবশ্যই আমার মন্তব্য নিতে হবে। এটাই সাংবাদিকতার নৈতিকতা।’
একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি জানতে চেয়েছেন কীভাবে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলো। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের সাংবাদিকতা কালীগঞ্জে চলবে না। এখানে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা থাকতে হবে।’
বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্য কোনো দলের নেই। সবাই মিলে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে হবে।
দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি নিজেকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দেন, তাহলে অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা কঠিন হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে অনেক বড় নেতা দল ছেড়ে গিয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে গেছেন।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, ইসরাইল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কসমিক ডেস্ক