সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরজুড়ে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে রেমিট্যান্স বেড়েছে। ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক অর্থবছরের পরিসংখ্যানও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছিল ২১ দশমিক ৬১৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
মাসভিত্তিক হিসাবেও জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশে এসেছে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধু ৩০ জুন একদিনেই এসেছে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছরের জুন মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার, তবুও পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক লেনদেনে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের লাখো প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্জিত আয় দেশে পাঠিয়ে পরিবার, স্থানীয় অর্থনীতি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নতুন এই রেকর্ড ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ জোরদারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় দেশে পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই অর্জন দেশের রেমিট্যান্স খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক