রাশিয়া-অধিকৃত পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে যাত্রীবাহী একটি বাসে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় মস্কো-সমর্থিত প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন এর আগের দিন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, হামলাটি দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইয়েনাকিয়েভো এলাকায় ঘটে। যাত্রীবাহী বাসটি মস্কো থেকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোলের দিকে যাচ্ছিল। ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়া দখল করে নেয় এবং বর্তমানে মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দোনেৎস্ক অঞ্চলের রাশিয়া-সমর্থিত প্রশাসনিক প্রধান ডেনিস পুশিলিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ড্রোন মস্কো-সিমফেরোপোলগামী একটি কোচে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, হামলায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর দুই পক্ষই একে অপরের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক পরিবহন লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা সংঘাতকে আরও জটিল ও মানবিক সংকটকে গভীরতর করছে। বিশেষ করে দোনেৎস্কের মতো বিতর্কিত ও যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দোনেৎস্কসহ পূর্ব ইউক্রেনজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক