সাধারণ ক্ষমায় মিয়ানমারে ৬ হাজার ১৩৪ বন্দী মুক্তির ঘোষণা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সাধারণ ক্ষমায় মিয়ানমারে ৬ হাজার ১৩৪ বন্দী মুক্তির ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
সাধারণ ক্ষমায় মিয়ানমারে ৬ হাজার ১৩৪ বন্দী মুক্তির ঘোষণা ছবির ক্যাপশন:

ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে মিয়ানমারের সামরিক সরকার সাধারণ ক্ষমার আওতায় ছয় হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার থেকে এ মুক্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এটি কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির খবরে বলা হয়, সামরিক সরকারের প্রধান ও স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণায় জানানো হয়, মোট ৬ হাজার ১৩৪ বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫২ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ক্ষমার আওতায় কেবল সাধারণ অপরাধে দণ্ডিত বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। হত্যা, ধর্ষণ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে শর্ত আরোপ করে বলা হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত কেউ ভবিষ্যতে আবার আইন ভঙ্গ করলে তার আগের সাজা বহাল থাকবে এবং নতুন অপরাধের জন্য অতিরিক্ত সাজা যোগ হবে।

রোববার সকালে ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারের সামনে ভিড় করেন রাজনৈতিক বন্দীদের স্বজনরা। তাদের আশা ছিল, এই সাধারণ ক্ষমার তালিকায় সামরিক শাসনের বিরোধিতায় আটক নেতাকর্মীরাও থাকবেন। তবে এখন পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে দেশটির সাবেক গণতান্ত্রিক নেত্রী ও নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় আটক রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকার মাসব্যাপী তিন ধাপে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করছে, যার প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বন্দী মুক্তির সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ছাড়া এই সাধারণ ক্ষমা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন নয়। তারা বলছেন, এটি মূলত সামরিক শাসনের বৈধতা প্রদর্শনের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করতে চাইছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ইন্টারনেটসহ আইসিটি সেবা দেবে বিএনপি

ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ইন্টারনেটসহ আইসিটি সেবা দেবে বিএনপি