ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে যে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী–কে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী করা হতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেননি, তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবন ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রতীয়মান করছে।
রিজভী ছাত্রদলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর নির্বাচিত ভিপি হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রিজভী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান, মিছিল ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বহুবার গ্রেপ্তার হন। রিমান্ডে নির্যাতন, কারাবাস—সবই তিনি অতিক্রম করেছেন। এই দীর্ঘ ও সংকটময় অভিজ্ঞতা তাকে দলের অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী সূত্র জানায়, সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দল বদ্ধপরিকর। তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করার জন্য এবার এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে রুহুল কবির রিজভীকে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা গঠন হবে তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে একজন অভিজ্ঞ নেতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণমাধ্যম নীতি, তথ্যপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিকীকরণের জন্য রিজভীর অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে। তার নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে।
বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীর মন্ত্রীত্ব বাস্তবায়িত হলে তিনি দেশের তথ্য নীতি, গণমাধ্যম উন্নয়ন, ডিজিটাল সম্প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় নীতি অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার, জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন।
সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী করা হতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে, তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।