নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিখুঁত ব্যবস্থাপনাই এখন লক্ষ্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিখুঁত ব্যবস্থাপনাই এখন লক্ষ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 8, 2026 ইং
নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিখুঁত ব্যবস্থাপনাই এখন লক্ষ্য ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে নির্বাচনকে আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বরাতে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোটকেন্দ্রিক যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে প্রধান উপদেষ্টা সন্তুষ্ট। তার মতে, সারা দেশে নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং প্রচারণা চলছে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

প্রধান উপদেষ্টার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, প্রচারণাকালে প্রার্থীদের মধ্যে কটু কথা বা অশালীন আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিকে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তার আশা, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও নিরাপদ, যেখানে নারীসহ সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রেসসচিব বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট এবং খুশি। আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এটিকে আরও নিখুঁত করা।” অর্থাৎ, ভালোভাবে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ব্যাপক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শফিকুল আলম জানান, সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এখন পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপটি নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা কেন্দ্রের আশপাশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে, অ্যাপটির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বার্তা পৌঁছে যাবে। প্রেসসচিব জানান, দুর্গাপূজার সময় ৩২ হাজার মণ্ডপে এই অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই পরীক্ষামূলকভাবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মতো দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান প্রেসসচিব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি সদস্য, বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য, পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ৫ লাখেরও বেশি সদস্য। এই বিশাল জনবল সমন্বিতভাবে ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

প্রার্থী সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে শফিকুল আলম জানান, ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন মোট ৮৩ জন। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ জন বিদেশি ও ৫০০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রায় ১ হাজার ২০০ বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরকার মনে করছে, নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ ইতিবাচক ও সহায়ক। তবে এই সুষ্ঠু পরিবেশ ধরে রেখে নির্বাচনকে আরও নিখুঁত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় নয়: অনিন্দ্য ইসলাম

মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় নয়: অনিন্দ্য ইসলাম