ভারতীয় সিনেমা জগতে আবারও বিতর্কের ঝড় তুলেছে ‘পেদ্দি’ নামের নতুন চলচ্চিত্র। সিনেমাটিতে অভিনেত্রী Janhvi Kapoor-এর কিছু আবেদনময়ী দৃশ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতা।
পরিচালক Buchi Babu Sana জানিয়েছেন, দর্শক ও নারী অধিকারকর্মীদের সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি সিনেমাটি থেকে বিতর্কিত অংশগুলো বাদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম The Indian Express-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সিনেমায় জাহ্নবীর চরিত্র ‘আচিয়ামা’ গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু দৃশ্য দর্শকদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ছবির মূল চরিত্র Ram Charan অভিনীত ‘পেদ্দি’-র চরিত্র বিকাশ দেখানোর জন্যই আচিয়ামার উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। তবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কিছু দৃশ্য বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সমালোচিত দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল যেখানে জাহ্নবী কাপুরকে প্রথমবার পর্দায় দেখানোর সময় ক্যামেরার ফোকাস তার মুখের পরিবর্তে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে বেশি রাখা হয়েছিল। এই দৃশ্যটি দর্শকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এছাড়া আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, পেদ্দি চরিত্রটি আচিয়ামার সম্মতি ছাড়াই তাকে চুম্বন করছে। এই দৃশ্যটিকেও অনেকেই নারীর প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখেছেন। সমালোচকরা দাবি করেন, এ ধরনের দৃশ্য সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়াতে পারে।
পরিচালক বলেন, চরিত্রটির গ্রামীণ ও রুক্ষ স্বভাব ফুটিয়ে তুলতেই এমন দৃশ্য রাখা হয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি এবং এটি ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে।
‘পেদ্দি’ সিনেমাটি আশির দশকের অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত। এতে আরও অভিনয় করেছেন Shiva Rajkumar, Jagapathi Babu এবং Divyendu Sharma।
প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি গত ৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই এটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেললেও বিতর্কের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে দর্শকরা সিনেমার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ফলে কোনো দৃশ্য যদি সামাজিক বা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তা দ্রুত সমালোচনার মুখে পড়ে।
সব মিলিয়ে, ‘পেদ্দি’ সিনেমার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, চলচ্চিত্র নির্মাণে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মাতার এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক