আসন সমঝোতা ভেঙে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে তিন ধারার বিভাজন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আসন সমঝোতা ভেঙে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে তিন ধারার বিভাজন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 17, 2026 ইং
আসন সমঝোতা ভেঙে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে তিন ধারার বিভাজন ছবির ক্যাপশন:
ad728

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, তারা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮টি সংসদীয় আসনে নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং বাকি ৩২টি আসনে পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। ফলে কার্যত ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান থাকছে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট একত্র করে ‘ওয়ান বক্সে’ আনার যে উদ্যোগ চলছিল, তা ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টভাবে তিনটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই বিভাজনের প্রভাব ভোটের মাঠে কীভাবে পড়বে—তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা অভিযোগ করেন, আসন সমঝোতার আলোচনায় তারা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন। সে সময় ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় ওই আসনগুলোতেও প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ কার্যত ভেঙে পড়ে এবং ইসলামপন্থী রাজনীতি তিনটি পৃথক ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, যেখানে পাঁচটি ইসলামি দল রয়েছে। অন্যদিকে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আর তৃতীয় ধারায় রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা তিনটি ইসলামি দল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই বিভাজন কেবল কৌশলগত নয়; বরং আদর্শ, নেতৃত্ব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের পুরোনো সংকটকে নতুন করে প্রকাশ্যে এনেছে। আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী মানসিকতা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ৭০–৮০টি আসন, বিপরীতে জামায়াত তাদের ৩০–৩৫ আসনের মধ্যে রাখতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জামায়াত ৪০ থেকে ৪৫ আসনে ছাড় দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা গ্রহণ করেনি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে সন্দেহ তৈরি হয়—এই দাবি কেবল আসনসংক্রান্ত, নাকি ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক অভিপ্রায় রয়েছে। ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করে শেষ পর্যন্ত জামায়াত সিদ্ধান্ত নেয়, ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দল নিয়ে এগোনোই তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বিকল্প মোর্চা গঠনের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। দলটির ভেতরেও ঐক্য প্রশ্নে মতভেদ ছিল। সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের অনুপস্থিতি সে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হওয়ায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ঐক্যে থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা আদর্শিক ও নৈতিকভাবে কারও চেয়ে দুর্বল নই।’

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল, এর বেশি করার সুযোগ ছিল না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তি ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন তিক্ততার জন্ম দিয়েছে। ইসলামবিষয়ক লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ মনে করেন, শেষ মুহূর্তের এই বিচ্ছেদ নির্বাচনী রাজনীতিতে সব পক্ষের জন্যই ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে এখন বাস্তবতা তিন ধারার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই বিভাজনের মধ্যেও কারা কৌশলগতভাবে লাভবান হবে, আর কারা ক্ষতির মুখে পড়বে—তার উত্তর দেবে ভোটের মাঠ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ পরিবার পাবে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মা

বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ পরিবার পাবে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মা