ধানের শীষের বিজয়ে বাধা হতে পারেন ‘অভিমানী’ নেতারা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ধানের শীষের বিজয়ে বাধা হতে পারেন ‘অভিমানী’ নেতারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ধানের শীষের বিজয়ে বাধা হতে পারেন ‘অভিমানী’ নেতারা ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁদের বিদ্রোহী হিসেবে বিবেচনা করছে বিএনপি। এসব প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে ধানের শীষের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের নির্বাচন থেকে সরাতে তৎপর হয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সারা দেশে বিএনপির স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি তালিকা সংগ্রহ করেছে কেন্দ্র। সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট ও ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি যাঁরা এখনো নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে এসব নেতার ত্যাগ বিবেচনায় দল এখনো চূড়ান্তভাবে কঠোর হয়নি। শেষ সময় পর্যন্ত তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের। প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন।

বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি—মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন—পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এরপরও কেউ নির্বাচনী মাঠে থাকলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা দেখব। এরপরও কেউ থাকলে তখন দল সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, তাই হঠাৎ করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি কিছু আসন ছেড়েছে, যদিও সেগুলো বিজয়ী হওয়ার মতো আসন ছিল। এখনো যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে ধানের শীষও আছে। ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের বোঝানো হবে, এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপি শরিকদের জন্য ১৬টি আসন ছেড়েছে। নিবন্ধিত শরিকরা নিজেদের প্রতীকে এবং অনিবন্ধিত শরিকরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সমঝোতা অনুযায়ী, ওই আসনগুলোতে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি।

এদিকে যুগপৎ জোটের শরিক দলগুলোও চান না বিএনপির কোনো নেতা স্বতন্ত্র বা অন্য ব্যানারে নির্বাচনে থাকুক। তাদের আশঙ্কা, এতে ভোট বিভক্ত হয়ে ফল বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শরিক দলের এক নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

ঢাকা-১২ আসনের যুগপৎ জোটপ্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যেসব আসনে শরিকরা নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করছেন, সেখানে কোনো ব্যানারেই যেন বিএনপির প্রার্থী না থাকেন। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা থেকেই তারা নির্বাচনে এসেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেও বিএনপির নীতি-আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে দাবি তাঁদের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, একজন রাজনীতিবিদ যখন মানুষের সমর্থন পান, তখন দলীয় অনুমোদনই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়।

কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিন বলেন, তিনি জনগণের স্বার্থেই নির্বাচনে এসেছেন। নাটোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, দল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিলেও আদর্শ থেকে তাঁকে বিচ্যুত করা যাবে না।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের শেষ সময়ে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়েছে। বোঝানো, সমঝোতা কিংবা কঠোর ব্যবস্থা—শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায় দল, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা: সম্পাদকদের সঙ্গে ফো

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা: সম্পাদকদের সঙ্গে ফো