রংপুর সদরের মমিনপুর ইউনিয়নের মহেশপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত যুবক। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম নুরল হক (৫০)। তিনি মহেশপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ছেলের নাম মাসুদুল হাসান (২৪)। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে।
বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদুল হাসান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাবা নুরল হকের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরল হক ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে না গিয়ে স্বেচ্ছায় রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর। তিনি জানান, অভিযুক্ত যুবক থানায় এসে ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
ওসি আরও জানান, নিহত নুরল হকের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় মহেশপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহ থেকে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে—তা কেউ কল্পনাও করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং বিস্তারিত পরিস্থিতি জানার জন্য তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
কসমিক ডেস্ক