কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, পিএসসি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, প্যান্ট পিস, গবাদিপশু, কম্বলসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য পাচার রোধে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করে আসছে। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান দমন এবং সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বক্ষণ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযানকালে বিজিবির টহল দল সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এসব মালামাল জব্দ করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, পিএসসি বলেন, দেশ ও জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, “বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব।”
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা বাড়ায় চোরাচালান কার্যক্রম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোপুরি দমন করতে হলে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।