আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে গণভোটকে সামনে রেখে সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ভোটারদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এই আসনে এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮৩৮ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৮ জন পুরুষ এবং ৭৪০ জন নারী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০৯ জন ভোটারের আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে, আর ২৯ জনের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনকারীদের বড় একটি অংশ বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরাও এই ব্যবস্থার আওতায় ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন সম্পন্ন ও অনুমোদিত ভোটারদের নির্ধারিত ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালটে ভোট প্রদান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতীক সংবলিত ব্যালট পেপারের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি ব্যালটের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও সংযুক্ত থাকবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৪টায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনা করা হবে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভোটার শাহীন আলম বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছি। প্রবাসে থেকেও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছি—এটি আমার জন্য আনন্দের ও গর্বের।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী এবং কর্মসূত্রে নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কসমিক ডেস্ক