যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তখত-রাভানচি। সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় নতুন দফা বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তখত-রাভানচি বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। এটি করতে যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব। আমরা সম্পূর্ণ সততা ও সরল বিশ্বাস নিয়ে জেনিভার আলোচনায় অংশ নেব।” তার এই বক্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেনিভায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জামাতা জ্যারেড কুশনার-এর সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ মাসের শুরুতে দুই দেশ নতুন করে আলোচনা শুরু করলেও আগের দুই দফা বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
আলোচনার পটভূমিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তিবৃদ্ধি করছে। অন্যদিকে, ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে—দেশটি আক্রান্ত হলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হতে পারে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ সবসময়ই কূটনীতি। তবে প্রয়োজন হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করতেও ইচ্ছুক।” এই বক্তব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর থেকে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও ট্রাম্প ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জেনিভার বৈঠক উভয় দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একদিকে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে মুক্তি চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি ও সীমাবদ্ধতা আরোপ। তাই আলোচনায় পারস্পরিক ছাড় ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে আলোচনার অগ্রগতি অনেকাংশেই নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তবিক পদক্ষেপের ওপর। সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দ্বৈত পরিস্থিতিতে জেনিভা বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।
সংক্ষেপে, ইরান জানিয়েছে যে তারা দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত এবং আলোচনায় আন্তরিকভাবে অংশ নিতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
কসমিক ডেস্ক