উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া চলতি ২০২৫-২৬ উৎপাদন মৌসুমে খেজুর উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দেশটির কৃষি, পানিসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মৌসুমে খেজুর উৎপাদন প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে। যা আগের ২০২৪-২৫ মৌসুমের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি তিউনিসিয়ার জাতীয় খেজুর মান উন্নয়ন তহবিলের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ কমিটির এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী এসেদ্দিন বেন শেখ। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি খেজুর উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী এসেদ্দিন বেন শেখ বলেন, তিউনিসিয়ার কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো খেজুর। জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। উৎপাদন বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখতে জাতীয় খেজুর মান উন্নয়ন তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, উন্নত প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বৈশ্বিক বাজারে খেজুরের বাণিজ্যিক প্রচার জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা ও অভিযোজনমূলক উদ্যোগে তহবিলের অর্থ ব্যয় করার কথা জানানো হয়।
বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, খেজুর উৎপাদনে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে তিউনিসিয়ার খেজুর উৎপাদন প্রধানত ‘ডেগলেট নূর’ জাতের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের খেজুর উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া উৎপাদিত খেজুর সংরক্ষণের জন্য হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ না করলে রপ্তানি সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, প্রয়োজন হলে জাতীয় খেজুর মান উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়ন আরও বাড়ানো হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তিউনিসিয়া বিশ্ব খেজুর বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
কসমিক ডেস্ক