ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুপুর ২টায় সংসদে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণ প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি সংসদের সামনে সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। দলটি ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোট। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন লাভ করে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান নেয়।
এ ছাড়া নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি এই নির্বাচনে ছয়টি আসন পেয়েছে। ফলে সংসদে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ মোট নয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে সংসদে।
অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ এবং খেলাফত মজলিস থেকেও একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও সাতজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে বিভিন্ন মতামত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদের নতুন অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ভাষণে সরকারের নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কসমিক ডেস্ক