ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে অগ্রগতি নেই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে অগ্রগতি নেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে অগ্রগতি নেই ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি, যা ফারাক্কা চুক্তি নামে পরিচিত, তার নবায়ন আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে নবায়নের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে চুক্তিটি নবায়নের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

কূটনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকারই গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন সামনে রেখে সংবেদনশীল এই ইস্যুতে বড় কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সরকার আগ্রহী নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-বাংলাদেশের পানি চুক্তি এখন আর কেবল কারিগরি বা পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন, পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি এবং হাতে থাকা সীমিত সময় ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পানি ও সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা, ফেনী, মুহুরীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর মতো গঙ্গার পানিবণ্টনও রাজনৈতিক সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এ কারণেই সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, ফারাক্কা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি নবায়নের আগে বিস্তৃত আলোচনা, কারিগরি পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেআরসির পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো নিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্যই যৌথ নদী কমিশন কাজ করে। অন্যান্য বিষয়ে যোগাযোগ থাকলেও ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি জানান, চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে এবং এখনো নবায়নের জন্য কোনো ফরমাল কার্যক্রম শুরু হয়নি। নির্বাচনের আগে এটি সম্ভব হবে বলেও তিনি মনে করেন না।

পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো প্রস্তুতি না নেওয়ায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। ইমেরিটাস অধ্যাপক ও টেকসই উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ড. আইনুন নিশাতের মতে, ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি অনেক আগেই শুরু করা উচিত ছিল। যদিও এখন দেরি হয়ে গেছে, তবুও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরই নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক যদি ইতিবাচক থাকে, তাহলে দেরিতে শুরু হলেও চুক্তি নবায়নে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন শুধু পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়; এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নদীভাঙনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে গেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার কিউসেক এবং ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি পায়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন বিলম্বিত হলে ভবিষ্যতে এটি শুধু পানি নয়, বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক: সিডিএফ

বিশ্বের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক: সিডিএফ