পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
আগামীকাল প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে এই সিরিজকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু হিসেবে উল্লেখ করেন মিরাজ।
দীর্ঘ বিরতির প্রভাব
মিরাজ বলেন, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দল খুব বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি।
তিনি বলেন,
“২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর আমরা খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি। যেগুলো খেলেছি সেগুলোও অনেক বিরতির মধ্যে হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটু কঠিন ছিল।”
তবে সামনে বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক ওয়ানডে ম্যাচ অপেক্ষা করছে বলে জানান অধিনায়ক।
নতুন পরিকল্পনার সুযোগ
মিরাজ বলেন, সামনে অনেক ম্যাচ থাকায় দল এখন নিজেদের পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে সাজাতে পারবে।
তার মতে, নিয়মিত ম্যাচ খেললে দল নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাবে এবং বিশ্বকাপের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হবে।
নতুন প্যাটার্ন তৈরির লক্ষ্য
বাংলাদেশ দল আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে খেলত বলেও উল্লেখ করেন মিরাজ।
তিনি বলেন,
“আমাদের আগে ওয়ানডেতে একটা ভালো প্যাটার্ন ছিল। তখন অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় ছিল, যারা অনেকদিন একসাথে খেলেছে। ফলে তারা প্যাটার্নটা ভালো বুঝতে পেরেছিল।”
তবে বর্তমানে সেই সিনিয়রদের অনেকেই দলে নেই বলে জানান তিনি।
এই কারণে বর্তমান খেলোয়াড়দের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।
তরুণদের দায়িত্ব
মিরাজ বলেন, বর্তমান দলে যারা আছেন তাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি মনে করেন, নতুন খেলোয়াড়রা যদি দায়িত্ব নিয়ে পারফর্ম করতে পারে তাহলে দল দ্রুত নতুন একটি ছন্দ তৈরি করতে পারবে।
লক্ষ্য জয়ের ধারাবাহিকতা
পরিকল্পনা যাই হোক, শেষ পর্যন্ত দলের মূল লক্ষ্য জয় পাওয়া—এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তিনি বলেন,
“কাল থেকে যে সিরিজ শুরু হচ্ছে এবং সামনে যে সিরিজগুলো আছে সেগুলো আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেইভাবে পরিকল্পনা করছি।”
ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাবনা
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশ দল আপাতত ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চায়।
মিরাজ বলেন,
“আমরা খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না। প্রত্যেকটা সিরিজ এবং প্রত্যেকটা ম্যাচ আলাদাভাবে চিন্তা করছি।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে দল ভালো ফলাফল পাবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজকে তাই বাংলাদেশ দলের জন্য বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক