সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭৩ জন। স্থানীয় সময় সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে সামরিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা দেশটির রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা ও খার্তুমের মধ্যে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এর সামরিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকার পর হঠাৎ এই হামলায় পুরো এলাকাজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, আরএসএফের একাধিক ড্রোন সিনজায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় সেখানে একাধিক রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক চলছিল।
সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, নিহতদের মধ্যে সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও হামলায় তার দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধান নিহত হয়েছেন। এই তথ্য রাজ্যের যোগাযোগ দপ্তরও নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পোর্ট সুদানকে প্রায় তিন বছর ধরে যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার পর সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক দিন পরই এই হামলা চালানো হলো। এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনী বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সিনজা পুনর্দখল করে এবং পরবর্তীতে খার্তুমেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধে দেশের ভেতরে ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। সংঘাতের কারণে সুদান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিনজা পুনর্দখলের পর এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ সেখানে ফিরে এসেছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই এসব মানুষকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর সময় আরএসএফ দ্রুত খার্তুম দখল করলে কয়েক লাখ মানুষ রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পরে সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ আবার খার্তুমে ফিরেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও কতটা নাজুক, তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।
কসমিক ডেস্ক