ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সরব হয়েছেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনি বুড্ডা গ্রামে গণসংযোগকালে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি।
ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, “পাঁচ বছর যদি চোখ রাঙাইয়া হাসিনার কাছ থেকে চলে আসতে পারি, তাইলে আর কোনো বাপের বেটা নাই যে আমারে থামাইতে পারে।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আসনে তাকে প্রার্থী হতে গিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি ও ব্যঙ্গের মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন শুনতে হয়, ধান নাকি খেজুর গাছ—প্রার্থী ভাড়া করতে হইল।” এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের ইঙ্গিত করে কথা বলেন।
রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ক্ষমতায় গেলেই দুই মাসে দুই শত কোটি টাকা কামানোর মানসিকতা রাজনীতিকে কলুষিত করে। তার ভাষায়, “চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, অন্যের ব্যবসা দখল, বালু তোলা, মাটি ভরাট—এইগুলো ঠিক না। এইসব করলে মানুষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, মানুষ সাধারণত অকারণে প্রতিবাদ করে না। অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষ যখন জেগে ওঠে তখন তার পরিণতি ভয়াবহ হয়। অন্যায় যেখানেই হবে, তার বিরুদ্ধে তিনি কথা বলবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদসহ দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় বহিষ্কার সত্ত্বেও মাঠে থাকার ঘোষণার মাধ্যমে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটের লড়াইয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত থাকতে চান এবং সরাসরি জনগণের সমর্থনেই এগোতে চান।
কসমিক ডেস্ক