কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের আচরণে মনে হচ্ছে তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাঁর আইনজীবী কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের নিয়ম অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন।
যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এনসিপি ও বিএনপি—দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে, তা নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, বিএনপি প্রার্থী একজন ব্যাংক ঋণখেলাপি হলেও তা হলফনামায় গোপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার তথ্য এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে, যা নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের শামিল।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচনি বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করলে তার প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপনের পরও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ ছিল, তা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, তারা নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ও বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
কসমিক ডেস্ক