আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্য এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে এই পতন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৯০.৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন দাম। এর আগে গত শুক্রবারও স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়, যেখানে দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।
একই সঙ্গে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আগস্ট ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৫.৪০ ডলারে নেমে এসেছে। এই ধারাবাহিক পতন স্বর্ণবাজারে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। চাকরির বাজার ভালো থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, Federal Reserve আগামী দিনে সুদের হার বাড়াতে পারে। আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
কারণ, যখন সুদের হার বৃদ্ধি পায়, তখন ব্যাংক আমানত বা বন্ডের মতো বিনিয়োগ থেকে বেশি লাভ পাওয়া যায়। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে এবং দামও স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে নেমে আসে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে—তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে Iran ও Israel-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তেলের দাম বাড়ার ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের দাম বাড়ার কথা, কারণ এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমানে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন। বিশেষ করে, ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে স্বর্ণের বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি করছে। একদিকে তারা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে চান, অন্যদিকে উচ্চ সুদের হারের কারণে বিকল্প বিনিয়োগে ঝুঁকছেন।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার বর্তমানে এক ধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিক শক্তি, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করছে।
আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তবে আপাতত স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক