তপশিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ১১ দলীয় জোটে দরকষাকষি তুঙ্গে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তপশিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ১১ দলীয় জোটে দরকষাকষি তুঙ্গে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
তপশিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ১১ দলীয় জোটে দরকষাকষি তুঙ্গে ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হলেও এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর আসন বণ্টন চূড়ান্ত করার চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা দেন। আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) জোটে ছিল। সর্বশেষ কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হওয়ায় জোটটি আরও বিস্তৃত হয়।

জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী শরিকদের জন্য প্রায় ১১০টি আসন ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে। আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩৫-৪০, এনসিপিকে ৩০, খেলাফত মজলিসকে ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১০ এবং অন্যান্য দলকে এক থেকে চারটি আসনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে জোটভুক্ত দলগুলোর ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দরকষাকষির কৌশল হিসেবেই অতিরিক্ত প্রার্থী রাখা হয়েছে।

জোটের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপিকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে এনসিপিকে ১০টির বেশি আসন দেওয়া হবে না—এমন খবর ছড়ালেও দলটির নেতারা তা নাকচ করেছেন। এনসিপির দাবি, অন্তত ৩০ আসন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং ২৫টি আসন প্রায় চূড়ান্ত।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, দলটি ৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে এবং ৩০-৩৫টির কম আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও বলেন, আসন সমঝোতার আলোচনা ইতিবাচক এবং দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব পুরোপুরি কাটেনি। শুরুতে দলটি ১২০-১৫০ আসনের দাবি জানালেও পরে তা কমিয়ে ৭০ আসনের কথা বলা হচ্ছে। তবে জামায়াত এখনো ৩০-৪০ আসনের আলোচনাতেই রয়েছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে। বড় কোনো সংকট নেই, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমাধান হবে।

সব মিলিয়ে সময়ের চাপ, অভ্যন্তরীণ দরকষাকষি ও রাজনৈতিক সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ব্যাংকে নারী সুবিধা নিশ্চিতে ওয়াশরুম নির্মাণের নির্দেশ জারি

ব্যাংকে নারী সুবিধা নিশ্চিতে ওয়াশরুম নির্মাণের নির্দেশ জারি