মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এই সংকট মোকাবেলায় দেশের বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সমন্বিত কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার ব্যয় সংকোচনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানির মাসিক বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া, সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সভা-সেমিনার সংক্রান্ত ব্যয়ও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপ্যায়ন খাতে ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
সরকারি খাতে নতুন করে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে সরকারি কার্যালয়গুলোর জন্য। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ব্যবহার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী তিন মাসের জন্য দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সরকার শুধু সাশ্রয়ের দিকেই নয়, উৎপাদন খাত সচল রাখার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প এবং সারের উৎপাদন ও সরবরাহ যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা মিলবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সরকার একদিকে যেমন ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা হলেও মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।