কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে কথিত ক্যাসিনো সম্রাট মোস্তাক মিয়াকে ৩৪)কে গ্রেফতার
করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার টাকা, অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের একটি অংশ জুয়া চক্রের প্রলোভনে পড়ে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং থানার এসআই মোঃ সাইফুল ইসলাম ও এএসআই আবু সাইদ সুজনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৭ জুন) রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে উপজেলার আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের বীর বারুইটারি গ্রামের কাস্টমস মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোস্তাক মিয়াকে তার নিজস্ব বিকাশ এজেন্ট দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, মোস্তাক মিয়া বিকাশ ও নগদ এজেন্ট ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১১টি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব ওয়েবসাইটের নিবন্ধিত সদস্যরা তার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় মাদক, জুয়া ও চোরাকারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সমাজবিধ্বংসী এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”