ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। তিনি জানান, একটি যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা দুই ধাপে সম্পন্ন হতে পারে। প্রথম ধাপে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হবে, যেখানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লেবানন অভিযানসহ আঞ্চলিক সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখনো সবকিছু প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
এই কূটনৈতিক আলোচনার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি। তারা দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে সীমিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার মতো শর্ত আলোচনা করা হচ্ছে।
ইরান পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন বলছে, যেকোনো চুক্তি কার্যকর হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দকৃত সম্পদ আংশিকভাবে মুক্ত করা হতে পারে, তবে তা ইরানের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর এই কূটনৈতিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক জটিলতার কারণে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
কসমিক ডেস্ক