যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর–এ হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা পণ্য ওঠানো-নামানোর সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দর এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফটের তীব্র সংকট রয়েছে। চাহিদার তুলনায় এসব যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় ধরে, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ শেষ করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
সম্প্রতি সচল থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফট বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর আগে শ্রমিকরা নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নতুন ক্রেন বা ফর্কলিফট না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা কাজ বন্ধ রাখেন।
শ্রমিকদের আরেকটি প্রধান দাবি হলো ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতি টন পণ্যে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই তারা প্রতি টনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছেন।
শ্রমিকরা আরও জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয় না এবং বেনাপোলে তাদের স্থায়ী কোনো কার্যালয়ও নেই।
শ্রমিকদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনা। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিঁড়ে পড়ে এক শ্রমিক নিহত হন এবং একজন আহত হন। ওই ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো বাস্তবে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবিতেই এই কর্মবিরতি চলছে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে শ্রমিক নেতারা ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর হওয়ায় এখানে যেকোনো অচলাবস্থা জাতীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক