চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব: অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ অযৌক্তিক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব: অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ অযৌক্তিক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব: অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ অযৌক্তিক ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ড ও জাহাজ চলাচলের দৃশ্য
ad728

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবার ট্যারিফ বা মাশুল এক লাফে গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেবাগ্রহীতা ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বন্দরের বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের চাপ লাঘব করতেই মূলত এই অতিরিক্ত মাশুল আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার দায়ভার কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো সমীচীন নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় জানা যায়, মাতারবাড়ী চ্যানেল নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ এবং ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল ব্যয় সামাল দিতেই মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বন্দরের ঋণ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার খেসারত কেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের দিতে হবে?

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, সিমেন্ট, কয়লা, চিনি ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির প্রধান প্রবেশদ্বার এই বন্দর। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, চা এবং হিমায়িত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ফলে বন্দরের মাশুল বাড়ানো হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

মাশুল বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়বে। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হবে। অন্যদিকে রপ্তানি খাতে পরিবহণ ব্যয় বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে কোনোভাবেই লোকসানে নেই। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা, বিপরীতে আয় হয়েছে ৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এত বড় অঙ্কের মুনাফা থাকার পরও মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

চট্টগ্রাম বন্দর একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বার্ষিক প্রতিবেদনে ন্যূনতম খরচে এবং স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ সেবার মানে দৃশ্যমান উন্নয়ন ছাড়াই হঠাৎ করে মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দেশের অর্থনীতিতে যখন স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তখন চট্টগ্রাম বন্দরের এই ধরনের সিদ্ধান্ত ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই সামগ্রিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এই অযৌক্তিক মাশুল বৃদ্ধির উদ্যোগ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরে আসবে—এটাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ

ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ