পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সংঘাত, নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সংঘাত, নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 27, 2026 ইং
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সংঘাত, নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে ছবির ক্যাপশন:

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছে। এসময় তালেবানের ৭৪টি পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং পাকিস্তানি বাহিনী ১৮টি পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তানের ভেতরে ২৭ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের ৮ জন যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা ও পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের বিমান হামলা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জবাবে এ অভিযান করা হয়েছে।

সীমান্তে এ সংঘাতের প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালায়। তালেবান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় তাদের ৫৫ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। তারপর ভোরে পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা এলাকায় তালেবানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘গজব লিল হক’। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, পাকতিকা ও কান্দাহারের লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে এ হামলা করা হয়েছে, যাতে তালেবানের ১৩৩ সদস্য নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।

এই সংঘাতের মধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের ভৌগোলিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিশেষ উদ্বেগের কারণ। সীমান্ত অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়, যেখানে আত্মঘাতী হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলির ঘটনা নিয়মিত ঘটে। উভয় পক্ষই দাবি করছে, পার্বত্য এই সীমান্তে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীদের উপস্থিতি রয়েছে, যার কারণে প্রান্তিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই সংঘাতের আগে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক দফা সংঘাত হয়েছে, যা পরে মীমাংসা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে চলতি মাসের ২২ তারিখে পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখওয়ায় বান্নু জেলায় আত্মঘাতী হামলায় দুই সেনা নিহত হয় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি বাজৌরের নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরণে ১১ সেনা ও এক শিশু প্রাণ হারায়।

উল্লেখযোগ্য, গত বছরের অক্টোবরেও দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের ফলে ৭০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। তখন যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবে সীমান্তে উসকানি ও সংঘাত চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, উভয় দেশের সেনাবাহিনী সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য এ পরিস্থিতি নিরাপত্তা ও জীবনধারণের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, এ ধরনের সংঘাতের ফলে স্থানীয় জনজীবন ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের এই সংঘাত এখনো সমাধান হয়নি এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। উভয় দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সংঘাত এড়ানো যায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনি

নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনি