ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝিতে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল সাড়ে তিন ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, যা যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে তিনটার দিকে নদীতে হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসে, ফলে দৌলতদিয়া ঘাট (রাজবাড়ী) ও পাটুরিয়া ঘাট (মানিকগঞ্জ) দিয়ে নদী পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীরা আটকা পড়ে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর আরিচা কার্যালয় জানিয়েছে, কুয়াশার কারণে নদীতে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে সব ধরনের ফেরি—রো-রো, কে-টাইপ এবং ইউটিলিটি ফেরি—নোঙর করা হয় এবং যানবাহন পারাপার স্থগিত রাখা হয়।
আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুস সালাম বলেন, “নদীতে হঠাৎ ঘন কুয়াশা নামার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। যাত্রীরা যেন নিরাপদে পারাপার করতে পারে, এজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।”
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী এবং মানিকগঞ্জের দিকে যাত্রা করা বহু গাড়ি ও যাত্রী কিছু সময় নদীর ঘাটে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। পরিবার এবং ব্যবসায়িক কাজে আসা যাত্রীরা কুয়াশার মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা তাদের জন্য কষ্টকর অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। এছাড়া ছোট ছোট বাণিজ্যিক যানবাহনও পারাপার না হওয়ার কারণে তাদের সরবরাহ কার্যক্রমে বিলম্ব হয়।
রোববার সকাল ৭টার পর কুয়াশা কমতে শুরু করলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। আরিচা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং সড়ক ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা আরও জানান, পদ্মা নদীর মত বড় নদীতে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে শীতকালীন ফাল্গুন মাসে ঘন কুয়াশা নেমে নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা নৌপরিবহন নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয় যাত্রীরা বলছেন, “আমরা অনেক সময় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করি, কিন্তু হঠাৎ কুয়াশা নামলে ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এটি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়, তবুও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা অসুবিধা সৃষ্টি করে।” তবে তারা বিমানবন্দর ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সতর্কতামূলক পদক্ষেপকে সমর্থনও করেছেন।
ফলে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকা ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, পদ্মা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যাত্রীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আবহাওয়ার সতর্কতা এবং যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে এই ধরনের পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করছে।
পরবর্তীতে যাত্রীরা সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক