ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিপাতে উপজেলার চরবেতাগৈর এলাকার এই সড়কে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি নান্দাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী বীর বেতাগৈর ও চর বেতাগৈর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করে। বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামটখালি দক্ষিণ বাজার থেকে শুরু হয়ে সড়কটি চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চরউত্তরবন্দ বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। বিশেষ করে চরউত্তরবন্দ এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার থাকায় সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
জানা গেছে, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন। ২০১৭ সালে এক কিলোমিটার এবং ২০১৮ সালে আরও আধা কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করা হয়েছিল। তবে যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে আগে থেকেই একটি সরু ছিদ্র ছিল, যার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিচে নামত।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবল বেগে পানি নিচে নামতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে সড়কের নিচের মাটি সরে যায় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও শেষ পর্যন্ত বুধবার সড়কের মাঝখান ভেঙে গিয়ে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে এবং সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময় ও খরচ—উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দ্রুত সংস্কার না করা হলে এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, সড়কের বর্তমান অবস্থা জানতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শনের পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে স্থায়ী সমাধান নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক