মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, এই সামুদ্রিক পথ বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ যদি এ পথ ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেশটির বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
ইরানি ওই সামরিক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য এটি বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। কিন্তু অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। এর ফলেই প্রণালি দিয়ে নৌযানের চলাচল কমে এসেছে।
মুখপাত্র আরও জানান, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে চাওয়া কোনো জাহাজকে সরাসরি বাধা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। তবে এসব জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করে, তাহলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই দুই দেশের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। তাই এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সামরিক সংঘাত দেখা দিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও প্রণালি বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার সতর্কতা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ পথ দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, তা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক