সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের না করতেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাজিপুরের মেঘাই পুরাতন বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আহত ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান ভুট্টুর স্বজনরা। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুট্টুর বড় ভাই শাহিন তালুকদার। তিনি অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে রাকিবুল হাসান ভুট্টু কাজিপুর থেকে বাসে করে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিলেন। বাসটি দুবলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সুমন ও সোলায়মান হোসেনের নেতৃত্বে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল বাসটির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ভুট্টুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, পরে তাকে যমুনা নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযুক্ত সুমন কাজিপুর উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবলুর ছেলে বলে জানানো হয়। আর সোলায়মান হোসেন কাজিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই আরিফ তালুকদার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ফোনে সুমন হুমকি দিয়ে বলেন—ভুট্টু পুলিশ-প্রশাসন যাকেই নিয়ে আসুক, তাকে হত্যা করা হবে। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরদিন আবার সুমনের নেতৃত্বে অস্ত্রসহ কয়েকজন মেঘাই বাজার এলাকায় এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মামলা করতে গেলে বাধা ও হুমকির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান।
এ বিষয়ে কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়টি পুলিশের জানা আছে। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান বাবলুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
কসমিক ডেস্ক