হবিগঞ্জ জেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ার ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল গ্রিডের বনবীর এলাকায় ১৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। অনেক স্থানে বড় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো জেলাই বিদ্যুৎহীন ছিল।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কেন্দ্রে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এতে তাদের প্রস্তুতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
টানা কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনও স্থবির হয়ে পড়ে। পানির পাম্প বন্ধ থাকায় বাসাবাড়িতে তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার রাতের দিকে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে চালু হলেও বাহুবল উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম বুধবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার অমলেশ কুমার সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও তার মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিগগিরই পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক